ভেজাল ধরার সহজ উপায় নেই। উৎস জানাই একমাত্র উপায়।
সুন্দরবনের মৌয়াল, সাতক্ষীরার ঘানি, মধুপুরের বাগান — প্রতিটি পণ্যের পেছনে একজন মানুষের নাম আছে, আর প্রতিটি ব্যাচের ল্যাব রিপোর্ট আছে। কোনটা কোথা থেকে এল, বোতলের গায়ের নম্বর দিয়েই দেখে নিতে পারবেন।
সব পণ্য
প্রতিটি প্যাকেটে ব্যাচ নম্বর ও প্যাকেজিংয়ের তারিখ দেওয়া থাকে।
"খাঁটি" শব্দটা সবাই লেখে। আমরা প্রমাণ রাখি।
চারটি জিনিস আমরা করি, যেগুলো বেশিরভাগ বিক্রেতা করে না — কারণ এতে খরচ বাড়ে আর মুনাফা কমে।
প্রতি ব্যাচের ল্যাব রিপোর্ট
মধুর আর্দ্রতা ও চিনি, তেলের অ্যাসিড ভ্যালু, মসলার রঙ মেশানো হয়েছে কিনা — বিএসটিআই অনুমোদিত ল্যাব থেকে টেস্ট করানো হয়। রিপোর্ট ওয়েবসাইটে থাকে।
ব্যাচ নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিং
প্যাকেটের নম্বর সাইটে বসালে দেখবেন কার কাছ থেকে সংগ্রহ, কবে প্যাক করা, কোন ল্যাবে টেস্ট। লুকানোর কিছু নেই বলেই দেখানো যায়।
মধু গরম করা হয় না
পাস্তুরাইজ করলে মধু বছরের পর বছর তরল থাকে, দেখতে সুন্দর লাগে। কিন্তু এনজাইম নষ্ট হয়। আমাদের মধু শীতে জমে যায় — সেটাই স্বাভাবিক।
না মিললে ফেরত
সাত দিনের মধ্যে জানালে পণ্য ফেরত নিয়ে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়। খোলা প্যাকেটও নেওয়া হয় — স্বাদ না মিললে জোর করার কিছু নেই।
কোথা থেকে আসে
মাঝখানে যত কম হাত, দাম তত কম আর ভেজালের সুযোগও তত কম।
মৌয়াল সমিতির ২৩ জন সদস্যের কাছ থেকে সরাসরি, চৈত্র-বৈশাখের চাক থেকে।
কাঠের ঘানিতে ধীরে ভাঙা, তাই ঝাঁঝ থাকে। প্রতি ব্যাচ ২০০ লিটারের বেশি নয়।
নিজস্ব চুক্তিবদ্ধ ১৪ বিঘা জমি, রাসায়নিক সার ছাড়া চাষ।
মৌসুমে সরাসরি আমদানি, ভ্যাকুয়াম প্যাকে আসে — বাজারের খোলা খেজুরের মতো নয়।
আস্ত মসলা কিনে নিজেদের ইউনিটে গুঁড়া করা হয়, চাহিদা অনুযায়ী — আগে থেকে স্টক করা হয় না।
আমদানি করা কাঁচামাল, স্থানীয়ভাবে বাছাই ও প্যাকেজিং — ভাঙা দানা বাদ দিয়ে।
ক্রেতাদের কথা
মধু শীতে জমে যাওয়ায় প্রথমে ভেবেছিলাম নকল। ফোন দিলাম, ওনারা ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে বললেন কেন জমে। এই সততাটাই ধরে রেখেছে।
সরিষার তেলের ঝাঁঝ পেয়ে মা বললেন ছোটবেলার মতো লাগছে। এখন প্রতি মাসে ২ লিটার করে নিই।
রমজানে ডেলিভারি ২ দিন দেরি হয়েছিল, তবে আগেই জানিয়েছিল। খেজুর নিয়ে কোনো কথা নেই — আজওয়া একদম শুকনো নয়, নরম।
অর্ডার কনফার্ম করুন
টাকা আগে দিতে হবে না। পণ্য হাতে পেয়ে কুরিয়ারকে দেবেন।
সাধারণ প্রশ্ন
মধু জমে গেলে কি সেটা নকল?
উল্টো। কাঁচা মধুতে গ্লুকোজ বেশি থাকলে শীতে দানা বেঁধে যায় — এটি খাঁটি মধুর লক্ষণ। যে মধু সারা বছর একইরকম তরল থাকে, সেটি সাধারণত গরম করে প্রক্রিয়াজাত করা। জমে গেলে বোতলটি কুসুম গরম পানিতে বসিয়ে রাখলেই আবার তরল হবে।
ল্যাব রিপোর্ট কোথায় দেখব?
প্যাকেটের গায়ের ব্যাচ নম্বরটি ওয়েবসাইটের "ব্যাচ দেখুন" ঘরে বসালে ওই ব্যাচের পূর্ণ রিপোর্ট, সংগ্রহের তারিখ ও সরবরাহকারীর নাম দেখতে পাবেন।
খেজুর কি সারা বছর পাওয়া যায়?
আজওয়া ও মরিয়ম সারা বছরই থাকে। কিছু জাত মৌসুমভিত্তিক — স্টক শেষ হলে পণ্যের পাশে "স্টক নেই" লেখা থাকে, আগে থেকে বুকিং নেওয়া হয় না।
সরিষার তেলে ঝাঁঝ এত বেশি কেন?
কাঠের ঘানিতে কম তাপে ভাঙা হয় বলে অ্যালাইল আইসোথায়োসায়ানেট অক্ষত থাকে — এটিই ঝাঁঝের কারণ। মিলে ভাঙা তেলে তাপ বেশি লাগে বলে ঝাঁঝ কমে যায়।
ডেলিভারি চার্জ ও সময় কত?
ঢাকা সিটিতে ৳৭০, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। ঢাকার বাইরে ৳১৩০, ৪৮–৭২ ঘণ্টা। ৳২,০০০ টাকার বেশি অর্ডারে ডেলিভারি ফ্রি। তেল ও কাচের বোতল বাবল র্যাপে যায়।
পাইকারি বা রিসেলার হিসেবে নিতে চাই।
১০ কেজি বা তার বেশি পরিমাণে আলাদা মূল্য তালিকা আছে। ০১৭০০-০০০০০০ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করুন, ট্রেড লাইসেন্স থাকলে ভালো।